প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তেহরান ও আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমায় যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তা এখন এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান খুব শিগগিরই এমন একটি গোপন অস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যা দেখে শত্রুরা ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানির মতে, শত্রুরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ভেবেছিল খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলবে। কিন্তু বর্তমানে তাদের সেই পরিকল্পনা সামরিক একাডেমিগুলোতে হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান এমন এক মারণাস্ত্র তৈরি করেছে যা শত্রুদের একদম ‘কাছাকাছি’ অবস্থান করছে। যদিও তিনি অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ দেননি, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন এটি হতে পারে কোনো উচ্চপ্রযুক্তির আন্ডারওয়াটার ড্রোন, হাইপারসনিক মিসাইল কিংবা উন্নত কোনো ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম।
কমান্ডার শাহরাম ইরানি এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন (USS Abraham Lincoln)-এর ওপর ইরান অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে রণতরীটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাদের কোনো যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা আকাশ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়নি। যদিও পেন্টাগন থেকে এই হামলার ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর কৌশলগত অবস্থান যে চ্যালেঞ্জের মুখে, তা স্পষ্ট।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেল বাজারে। ইরান বর্তমানে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।
কঠোর বিধিনিষেধ: ইরান এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতির নিয়ম চালু করেছে।
আরব সাগর থেকে অবরোধ: ইরান এখন কেবল পারস্য উপসাগর নয়, বরং আরব সাগরের দিক থেকেও এই পথটি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
মার্কিন পাল্টা অবরোধ: জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধারোপ করেছে। এই ‘ডুয়াল ব্লকেড’ বা দ্বিমুখী অবরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইরানি কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো অবৈধভাবে জব্দ করে নাবিক ও তাদের পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। তিনি মার্কিন বাহিনীর এই কর্মকাণ্ডকে সোমালি জলদস্যুদের চেয়েও ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, সোমালিরা অভাবের তাড়নায় এমন করত, কিন্তু আমেরিকানরা এটি করছে তাদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না করে, তবে এই নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরান মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ বার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
উপসংহার: ১৯০৫ সালের পর থেকে আধুনিক বিশ্বের ভূ-রাজনীতি অনেকবার মোড় নিলেও ২০২৬ সালের এই সংকট পুরো বিশ্বকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের ‘সারপ্রাইজ’ অস্ত্র যদি আসলেই কার্যকর হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য চিরতরে বদলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি (ইরান), আল-জাজিরা, রয়টার্স এবং মধ্যপ্রাচ্য সামরিক ডসিয়ার। তারিখ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |